ইংল্যান্ডে ট্রেনিং করা বাংলাদেশী ফুটবলার রিপন এখন রেলের ঝাড়ুদার

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  04:25 AM, 19 July 2020
ইংল্যান্ডে ট্রেনিং করা বাংলাদেশী ফুটবলার রিপন এখন রেলের ঝাড়ুদার

কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে ছুটতে হয় ফুটবলার রিপনকে সড়ক ও জনপথ অফিসে। তিন-চার ঘণ্টা ধরে অফিসের বিভিন্ন কক্ষ পরিষ্কার করেন। পরিষ্কার করতে হয় অফিসের সামনের লেন। হ্যাঁ, এই তরুণ শুধুই একজন ঝাড়ুদার নন, তিনি একজন ফুটবলারও। ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যাকে দেখিয়েছিলো বড় খেলোয়াড় হবার। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন টি অ্যান্ড টি ক্লাবের হয়ে। কিন্তু খেলোয়াড়ি জীবনের শুরুতে যে সম্ভাবনা দেখিয়েছিলেন, তাতে ২৩

বছর বয়সী ফুটবলার রিপন যেতে পারতেন আরও অনেক দূর। ২০১২ সালে মুঠোফোন কোম্পানি এয়ারটেলের (বর্তমানে রবি আজিয়াটা লিমিটেড) প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে নির্বাচিত হয়ে যে ১২ জন ফুটবলার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছিলেন, তাদেরই একজন ফরিদপুরের এই মিডফিল্ডার রিপন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ওয়েইন রুনি, রিও ফার্ন্ডিনান্ডদের মতো তারকাদের দেখে বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পাখা মেলেছিল রিপনের। কয়েক বছর না যেতেই সে স্বপ্ন

ডানা ভেঙে পড়ে বাস্তবতার জমিনে। ফুটবলটা এখনো খেলেন ঠিকই, তবে বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নের পরিবর্তে তার জীবনে এখন একটাই লক্ষ্য-মাস্টাররোলে ঢুকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরিটা যদি পাকা করা যায়! রিপনের মা, বাবাও ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। রিপনও এই কাজই করে যাচ্ছেন, মা-বাবার অবসরের পর নিজের একটি চাকরি হবে সেই আশায়। কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যার চোখে এঁকে দিয়েছিল বড় খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন, তিনি কী করে একজন

পরিচ্ছন্নতাকর্মী হয়েই জীবন কাটিয়ে দেবেন! রিপন যেন বাস্তবতার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন। দেশে ফেরার পর কোন ক্লাবের বা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কোন সহযোগিতা না পেয়ে আগের মতো হয়ে যান। সারা দেশ থেকে বেছে নেওয়া ১২ জন ফুটবলারের মধ্যে সুযোগ পেয়েছিলেন। ম্যানচেস্টার থেকে আসার পর ২০১৪ সালে আবাহনী অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে খেলেছিলেন রিপন। এরপর তৃতীয়, দ্বিতীয় ও প্রথম বিভাগ হয়ে ২০১৯ সালে খেলেন বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে। কিন্তু পাননি প্রত্যাশা অনুযায়ী পারিশ্রমিক। তার চেয়েও বড় হতাশা, প্রতিভা বিকাশের জন্য যে রকম ভালো কোচের অধীনে তার

খেলা দরকার ছিল, পাননি সে রকম কাউকে। রিপনের মধ্যে যে সম্ভাবনা ছিল, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। সারা দেশের ৬০ হাজার ছেলের মধ্যে থেকে বাছাই করে ওই ১২ জনকে ইংল্যান্ডের টিকিট তো আর এমনি এমনি দেননি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তিন স্কাউট কেভিন কনেল, মাইকেল বেনেট ও মাইকেল ম্যাকক্লিন। ফরিদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল কোচ মাসুদুর রহমান চুন্নু’বলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে অনুশীলন করার সুযোগ পাওয়া একজন ফুটবলার পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ

করে, শুনতেও কষ্ট লাগে। রিপনের মধ্যে অনেক বড় খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এই রকম প্রতিভার হারিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য হতাশার। বোন আরতি রানি বলেন, আমাদের অভাবের সংসারে স্বপ্ন ছিল ছোট ভাই বড় খেলোয়াড় হবে, আমাদের মত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করবে না। সরকারের কাছে আবেদন আমার ভাইকে খেলার জন্য ভালো কোন ব্যাবস্থা যেনো করে দেয়, যাতে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়।

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :