ফুটবল খেলতে সাইকেলে ৪০০ কিমি পার রায়হানের

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:21 AM, 12 July 2020
ফুটবল খেলতে সাইকেলে ৪০০ কিমি পার রায়হানের

ছোটবেলা থেকে ভালো ফুটবল খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন রায়হানের। কখনও দিনমজুর আবার কখনও শ্রমিকের কাজ করে চলতে থাকে তার সংগ্রামী জীবন। আর্থিক সমস্যার কারণে বিভিন্ন জেলায় সাইকেল চালিয়েই যায় খেলা করতে। তবে এবার অবিশ^াস্যকর একটি কাজ করেছে। ফুটবলের নেশায় চারদিন প্রায় ৪০০ কিমি পথ সাইকেল চালিয়ে কাউকে না বলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ব্যারিস্টার সুমনের ফুটবল একাডেমিতে খেলতে গিয়েছে। এ বিষয়ে ব্যারিস্টার সুমন তার নিজস্ব ফেসবুক

পেজে লাইভে তার পরিচয় প্রকাশ করেছে। রায়হান যশোরের বাঘারপাড়ার রায়পুর ইউনিয়নের ভদ্রডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর সাত্তারের ছেলে। তার বয়স ১৫ বছর। সে সিলুমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পাস করে বাঘারপাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। রায়হানের পিতা বর্তমান বাঘারপাড়া-কালীগঞ্জ সড়ক মেরামতের শ্রমিকের কাজ করছেন। ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক প্রসিকিউটর। সবার কাছে তিনি

ব্যারিস্টার সুমন নামে পরিচিত। সুমন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পীরবাজার এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রায়হান এর আগেও যশোর, নড়াইল, মাগুরা, সাতক্ষীরাসহ বেশকয়েকটি জেলায় সাইকেল চালিয়ে খেলা করতে গিয়েছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী সে। তবে ফুটবল খেলা সবচেয়ে বেশি পছন্দ তার। স্কুলের টিফিনের পর প্রতিদিন বাড়ি এসে সেই সাইকেল চালিয়েই যশোর সদরের হামিদপুর এলাকার শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে প্রশিক্ষণ করতে যেতো।

উপজেলাভিত্তিক স্কুলের ফুটবল খেলায় অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে কয়েকবার বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যায়। টাকাপয়সার দরকার হলে শ্রমিকেরও কাজ করে। রায়হানের মামা ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, গত ২০ জুন থেকে রায়হানের মা ও বাবা তার বোনকে নিয়ে হাসপাতালে ছিলেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাউকে না বলে গত ২৩ জুন বাড়ি থেকে চলে যায়। খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে, সে (রায়হান) বলে আমাকে খোঁজাখুঁজির দরকার নেই। আমি

ভালো আছি বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যারিস্টার সুমনের পেজে তার সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ করা পায়। সেখান থেকে জানতে পারি রায়হান হবিগঞ্জে ব্যারিস্টার সুমনের ফুটবল একাডেমিতে খেলছে। বর্তমান সে ওখানেই থেকে খেলাধুলা করছে। রায়হানের পিতা আব্দুর সাত্তার বলেন, রায়হান ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলতে খুব ভালোবাসে। রায়হানকে ভালো ফুটবল খেলোয়াড় বানানোর মতো সামর্থ্য আমার নেই। এখন যদি

সে নিজের প্রতিভা দিয়ে এগিয়ে যেতে পারে তবে এতেই আমার শান্তি। রায়হানের মামার মাধ্যমে জানতে পেরেছি সে ব্যারিস্টার সুমনের ফুটবল ক্লাবে খেলছে। যোগাযোগ করা হলে রায়হান বলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যারিস্টার সুমনের ফুটবল একাডেমি খোলার একটি পোস্ট দেখতে পাই। সেখান থেকে স্বপ্ন জাগে তার একাডেমিতে খেলার। বাড়িতে বললে এখানে আসতে দেবে না, তাই কাউকে না বলেই চলে এসেছি। স্বপ্ন আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। আমি একজন সৎ দক্ষ ফুটবল

খেলোয়াড় হতে চাই। সাইকেলে যাওয়ার বিষয়ে সে বলে, আর্থিক সমস্যার জন্যে সাইকেল চালিয়ে এসেছি। হবিগঞ্জ আসতে চার দিন সময় লেগেছে। রাতদিন সাইকেল চালিয়েছি। বাড়ি থেকে শ্রমিকের কাজ করে ৬০০ টাকা, একটি টর্চলাইট, পাওয়ার ব্যাংক, ফোনসহ একটি ব্যাগ নিয়ে এসেছি। সুমন স্যার খুবই ভালো একজন মানুষ। তার জন্যে সবাই দোয়া করবেন। সিলুমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম জানিয়েছেন, রায়হান পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবল খেলায়

মনোযোগী। সে অত্যন্ত ভালো ছেলে। যোগাযোগ করা হলে ‘ব্যারিস্টার সুমন ফুটবল একাডেমি’র পরিচালক সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, রায়হান যশোর থেকে সাইকেল চালিয়ে আমার একাডেমিতে খেলতে আসায় আমি কৃতজ্ঞ। বিষয়টি নিয়ে আমরা অবাক হয়েছি। শুনেছি রায়হান দরিদ্র ঘরের সন্তান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হবিগঞ্জের লোকজন সবসময়ই অতিথিপরায়ণ। আমি ওর থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :