বিসিএস/ ব্যাংক প্রস্তুতিঃ ৭ মার্চের ভাষণের A to Z গুরুত্বপূর্ন তথ্য একসাথে নোট করে রাখুন

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:59 AM, 19 May 2020
বিসিএস/ ব্যাংক প্রস্তুতিঃ ৭ মার্চের ভাষণের A to Z গুরুত্বপূর্ন তথ্য একসাথে নোট করে রাখুন

৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু …. লিখেছেন : মুজিবুর রহমান , জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি জজ এ সুপারিশ প্রাপ্ত কোনো কোনো নেতার ভাষণ জাতির ইতিহাস পাল্টে দেয়। আব্রাহাম লিংকনের “গেটিসবার্গ এ্যাড্রেস”(১৮৮৩), মার্টিন লুথার কিং এর “I have a Dream”(১৯৬৩)। কিন্তু কোন ভাষণ পারেনি একটা জাতিকে স্বাধীনতার সাধ এনে দিতে, পারেনি মুক্তির রাজটিকা ললাটে পরিয়ে দিতে…. শুধু একটি ভাষণ, একটি কাব্যই পেরেছে…. ১৯/১৮ মিনিটের ১১০৮ শব্দের সে কাব্যকে আমরা বলি ৭ই মার্চের ভাষণ…. যার স্রষ্ঠা- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। God sent him to make free the Bengalee nation… কিভাবে সম্ভব- লিখিত স্ক্রিপ্ট ছাড়া, শরীরে ১০৪ ডিগ্রী জ্বর নিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে মাথার উপর উড়ন্ত জঙ্গি বিমানের ভয় একপাশে রেখে এমন একটি ভাষণ দেওয়া….!!!! সেদিন বঙ্গবন্ধু আসলেন, দেখলেন, বললেন, এবং জয় করলেন ও করালেন….. তার ভাষনের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য দুর্দমনীয় অনুপ্রেরণার ও স্বাধীনতাকামী প্রত্যেক জাতি, প্রত্যেক

মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যত সব সময়ের জন্য অনুপ্রেরণার চিরন্তন উৎস…. আজকের ফিলিস্তিনীর জন্য, আজকের বেলুচিস্তানবাসীর জন্য, আজকের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য,আজকের চেচনীয়াদের জন্য, আজকের কাতালোনীয়বাসীদের জন্য….. ১. বঙ্গবন্ধু বাঙালির ন্যায্য অধিকারের চিরন্তন চাওয়া নিয়ে বক্তব্যটি শুরু করেছিলেন- “আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়..”- আজ বর্তমানে দাড়িয়ে একটু কান পেতে শুনুন তো- ফিলিস্তিনীরা কী চায়, বেলুচরা কী চায়, চেচনীয় কী চায়, রোহিঙ্গারা কী চায়, কাতালোনীয়ানরা কী চায়, কী বলে…. শুধু নিজের ন্যায্য অধিকার। তারা পায়নি, আমরা পেয়েছি। পার্থক্যটা একজন– বঙ্গবন্ধু…. ২. ” আমাদের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো এবং এদেশকে গড়ে তুলবো”— একটি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এরচেয়ে যুতসই কথা কি হতে পারে…? ৩. বঙ্গবন্ধু বলেন- ” ২৩ বছরের করুন ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের,বাংলার মানুষের রক্তের

ইতিহাস। ২৩ বছরের ইতিহাস মুমূর্ষু নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস…” — ইতিহাসের নির্মম দিকটি তুলে ধরলেন। এরপর বাঙালি জাতির সংগ্রামের ধাপগুলো বলে গেলেন। ইতিহাসের সাথে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের সমন্বয়টা এর চেয়ে দারুণ হতে পারত কি..? ৪. বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টে আলেচনার কথা বলতে গিয়ে বলেন- “যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও একজন যদিও সে হয়, আমরা মেনে নেবো…”— এ কথাটি সংসদীয় গণতন্ত্রের চরম ও চিরন্তন সত্য। বর্তমান সময়ের বিশ্বের জন্য এটা একধরনের আপ্তবাক্যই। ওনার এই উক্তিটি এখনো পার্লামেন্টে আলোচনা কিভাবে করা উচিৎ সেটার জন্য একটি দিকপাল কথন… আমাদের জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এই বাক্যটি খোদাই করে দেওয়া উচিৎ। যাতে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রত্যেক সাংসদ বুঝতে পারে পার্লামেন্টে কিভাবে আলোচনা করতে হয়, সহনশীলতার চর্চা করতে হয়। ৫. “শহীদের

রক্তের ওপর পাড়া দিয়ে, আরটিসিতে মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না…”— কতটুকু শক্তিশালী কথা ভাবতে পারেন…? পিতা কি ছেলের রক্ত পাড়া দিয়ে আপোষ করতে পারে..? ভাই কি ভাইয়ের বা ভাই কি বোনের রক্ত……? সেটা ওনি করেননি বলেই বঙ্গবন্ধু…. তাই তিনি কারো ছিলেন পিতা, কারো জন্য মুজিব ভাই, আর কারো জন্য স্নেহের মুজিবর…. ৬. “আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না। আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই…”– একটু ভেবে দেখুন তো কতটুকু নির্লোভ হলে এটা বলা যায়…!! ওনি প্রধানমন্ত্রীত্ব পায়ে ঠেলে, শুধু বাঙালির অধিকার চেয়েছে…. বঙ্গবন্ধু কিছু চাননি, চেয়েছে অধিকার- বাংলার কৃষকের, বাংলার শ্রমিকের, বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের…. তাই বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন বাংলার মাঠিতে নেমে বলেছিলেন—- রবিঠাকুর দেখে যান আমার সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আজ মানুষ হয়েছে…… ৬. “প্রত্যেক ঘরে

ঘরে দুর্গ গড়ে তোল…”— স্বাধীনতা প্রস্তুতির কথা বলার জন্য এর চেয়ে কি দৃঢ় ও সুন্দরভাবে বলা যায়….? ভাবুনতো বেলুচিস্তান কেন এখনো পরাধীন…? বঙ্গবন্ধুর এককথায় বাঙালি তার ঘরকে বানিয়েছে দুর্গ, শরীরকে বানিয়েছে ঢাল, মনকে বানিয়েছে অস্ত্র…. ৭. “আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমরা সব বন্ধ করে দেবে…”— অনেকে বলেন ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা প্রচ্ছন্ন ঘোষনা ছিল। তবে আমার কাছে মনে হয়, প্রচ্ছন্ন নয়, সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল.. ৮. ” গরিবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে, সেজন্য যে সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে, সেগুলোর হরতাল কাল থেকে চলবে না…” — বঙ্গবন্ধু হরতাল দিয়েছিলেন, তার মানে এই না যে হরতালে মানুষ মরুক, তবুও হরতাল আন্দোলন সফল হোক। মানুষের অধিকারের জন্য হরতাল, হরতালের জন্য মানুষের অধিকারের বঞ্চনা নয় ; বিশেষত: গরীব-দুঃখী মানুষের। তাই তিনি হয়ে

উঠেছিলে গরীবের ‘মুজিব ভাই’… ৮.”এই সাতদিনে হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইয়েরা যোগদান করেছে, প্রত্যেক শিল্পর মালিক তাদের বেতন পৌছে দেবেন…”— শ্রমিকের অধিকার আছে রাজনৈতিক আন্দোলনের, এরজন্য কোন মালিক যেন তার পেঠে লাতি না মারে…. ৯. “এই বাংলায় হিন্দু-মুসলমান-ননবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের উপর…” সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প যেন আমরা বাঙালিকে স্পর্শ করতে না পারে তার জন্য তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা। এ বাণী আজকের বাংলাদেশের জন্য কতই না প্রযোজ্য? স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও কি আমরা ওনার সেই সতর্কবাণী আগ্রাহ্য

করতে পারি…? আজ একজন মানুষ হিন্দু বলে মার খায়, সাওতাল বলে মার খায়…. একজন মানুষ ভিন্নমতের হলে তরবারি হাতে কতল করতে নেমে যায়…. সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বললে ড. জাফর ইকবাল স্যারের মতো মানুষের ঘাড়ে কোপ পড়ে….. ১০. “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।”—- মাথার উপর জঙ্গি বিমান উড়ছে, আর নিচে একজন কবি লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে স্বাধীনতার, মুক্তির কবিতা বলছে। কতটুকু ভয়ডরহীন ছিল মানুষটি…..!!! স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনা এই পৃথিবীর ইতিহাসে এরচেয়ে তেজোদৃপ্ত কণ্ঠে আর কেউ দেয়নি, দিতে পারবেও না এবং সম্ভবও নয়। এটা মহাপ্রলয়ের শেষ হুঙ্কার। যে প্রলয়ে প্রায় ২০০ বছরের সংগ্রামে পাওয়া জিন্নাহদের পাকিস্তান খড়কুটোর মত স্রেফ উড়ে গেছে….

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :