মায়ের সাথে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চুড়ি বিক্রি করা ছেলে আজ IAS অফিসার

মায়ের হাত ধরে মায়ের সঙ্গে গ্রামে গ্রামে অলি-গলি ঘুরে চুড়ি বিক্রি করত ছোট্ট রমেশ।চুড়ি বিক্রি করার থেকে উপার্জন করা টাকা দিয়েই চলত মা ছেলের প্রতিদিনের সংসার। শৈশব উত্তীর্ণ হতে না হতেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় রমেশকে। তবে ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ যেমন ছিল তেমনই মেধাবী ছিল রমেশ। মহারাষ্ট্রের মহাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা তারা। গ্রামের পথে চুরি বিক্রি করে মা ছেলের সংসার চালানো ছোট্ট ছেলে রমেশ আজ বড় হয়ে ঝাড়খণ্ডের বিদ্যুৎ মন্ত্রালয়ের সংযুক্ত

সবার আগে আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

সচিব। চুড়ি বিক্রেতা থেকে শেষপর্যন্ত আইএএস অফিসার হওয়ার যে যাত্রা পথ তা খুব একটা মসৃণ ছিল না বরং চড়াই-উতরাইয়ের ভরা। রমেশ এর বাবা গোরখ ঘোলাপের একটি ছোট্ট সাইকেল চালানোর দোকান ছিল।সাইকেল সারিয়ে যেটুকু অর্থ উপার্জন করতেন সেটুকুই সংসারের দায়েই চলে যেত। গোরখ ছিলেন মাদকাসক্ত৷ শুধুমাত্র নিজের টাকা নয়, স্ত্রী এবং পুত্রের উপার্জিত চুড়িবিক্রির টাকাও ম’দ খেয়ে নষ্ট করে দিতেন তিনি। কোন বয়স থেকে নেশা করার কারণে রমেশের বাবা প্র’য়া’ত

হন। তখন রমেশ পড়ে দ্বাদশ শ্রেণীতে। তার একটি ভাইও রয়েছে। শুধুমাত্র পড়াশোনা করার জন্য রমেশকে এক আত্মীয়ের বাড়ি চলে যেতে হয়। সেখানেও টুকিটাকি কাজ করে অর্থ মা এবং ভাইয়ের জন্য পাঠাতে হতো। স্কুলের মেধাবী ছাত্র ছিল রমেশ। রেজাল্ট ছিল ভীষণ ভালো। ৮৮.৫০ শতাংশের নিচে কোনদিন নাম্বার পাননি। মুক্ত বিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে স্নাতক উত্তীর্ণ হন। পাশাপাশি শিক্ষকতা শুরু করেন। তবে নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিল রমেশ। শিক্ষকতার পাশাপাশি আইএএস হওয়ার জন্য

প্রস্তুতি ও তিনি নিতেন। বর্তমানে রমেশ ঝাড়খণ্ডের বিদ্যুৎ মন্ত্রালয়ের সংযুক্ত সচিব। আট বছর হয়ে গেল আইএএস অফিসার হিসেবে কাজ করছেন তিনি। কিন্তু তার মার আগের মতোই চুড়ি বিক্রি করেন। রমেশ বলেছেন, ছোট থেকে তার মা চুড়ি বিক্রি করে পড়াশোনা এবং সংসারের খরচ যুগিয়ে এসেছেন। সেই পেশা তিনি আর ছাড়তে চাননা। যতদিন শরীর সঙ্গ দেবে ততদিনই চুড়ি বিক্রি করে যেতে চান রমেশের মা।

আরও পড়ুন

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন