সারাজীবন বিএনপি করলেও আমজাদ হোসেনের পাশে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী

সারাজীবন বিএনপি করলেও আমজাদ হোসেনের পাশে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী। চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের মরদেহ শুক্রবার দেশে আনা হবে।

গতকাল সন্ধ্যায় ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এসএ হক অলিক তার পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুর পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও দেশে পৌঁছায়নি প্রখ্যাত নির্মাতা, অভিনেতার মরদেহ। কারণ হিসেবে শোনা যাচ্ছিল অর্থের অভাব সংক্রান্ত ঝামেলা।

প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দেয়া ৪২ লাখ টাকা চিকিৎসার জন্য দেয়া হয়েছিল। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে তার চিকিৎসার বকেয়া বিলসহ মরদেহ দেশে আনার আনুষ্ঠানিকতা বাবদ প্রয়োজন ছিল প্রায় ৬৫ লাখ টাকা।

তাই ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আমজাদ হোসেনের মরদেহ দেশে আনতে ভোগান্তিতে ছিল তার পরিবার। টাকার জন্য ব্যাংককে পড়ে আছে কিংবদন্তি নির্মাতা আমজাদ হোসেনের মরদেহ। সেই খবর পেয়ে সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই গুণী নির্মাতার বড় ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল বলেন, ‘আমার বাবার প্রতি যে সম্মান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখালেন তার কৃতজ্ঞতার কি ভাষা আমার জানা নেই। আমার পরিবার কোনোদিন তার এই ঋণ শোধ করতে পারবে না।

বাবার অসুস্থতার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হলো। তিনি মমতাময়ী, আল্লাহ তাকে অনেক বড় মন দিয়েছেন।’

দোদুল আরও বলেন, আমার বাবা সারাজীবন বিএনপির আদর্শ লালন করেছেন। সেটা জেনেও তিনি আমার বাবার পাশে দাঁড়িয়েছেন। দুই দফায় এক কোটি টাকারও বেশি সহায়তা দিলেন। যা রীতিমতো বাংলাদেশের জন্য বিরল ঘটনা। আমি বলবো, মহানুভবতায় তিনি ইতিহাস তৈরি করেছেন।’

‘বিএনপির কট্টর সমর্থক জেনেও তিনি প্র‍য়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। কারণ চাষী সাহেব মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তিনি আজীবন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিল্পচর্চা করেছেন।

একইভাবে বরেণ্য গীতিকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী মাজহারুল আনোয়ারকেও মূল্যায়ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরও তার হাতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার সাথে সত্যি কারো তুলনা হয় না।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য গুণী এ নির্মাতাকে গত ২৭ নভেম্বর (মঙ্গলবার) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে। সেখানে তিনি প্রখ্যাত নিউরোসার্জন টিরা ট্যাংভিরিয়াপাইবুনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসারত অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সেখানে মারা যান ৭৬ বছর বয়সী এই চলচ্চিত্র নির্মাতা।

গোলাপি এখন ট্রেনে, ভাত দে, কসাই, নয়নমণি, দুই পয়সার আলতা’, জন্ম থেকে জ্বলছিসহ এমন আরও কিছু জনপ্রিয় সিনেমার কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক আমজাদ হোসেন।

গুণী এই নির্মাতা চলচ্চিত্রশিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতস্বরুপ- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

Add a Comment

Your email address will not be published.