অটো পাসে হতাশ জুবায়ের ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা তালিকায়

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:55 PM, 26 November 2021

জুবায়ের রহমান। ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ধরণী ধরদী গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম শেখের ছয় সন্তানের মধ্যে সে সবার ছোট। ২০১৮ সালে স্থানীয় এয়াকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় থেকে জিপিএ ৪.৩৩ পেয়ে এসএসসি পাস করে জুবায়ের। ফল আশানুরূপ না হওয়ায় বাড়ির পাশে কাদিরদী কলেজে মানবিক শাখায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়।

কলেজের নির্বাচনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসির মূল পরীক্ষায় একই ফলাফলের স্বপ্ন দেখে সে। বিধিবাম! জুবায়েরের স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নিলো না। মরণব্যাধী করোনাভাইরাসের আঘাতে দেশের সব একাডেমিক পরীক্ষা স্থগিত করে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে ২০২০ সালে এইচএসসিতে অটো পাস দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলাফলে জুবায়েরের জিপিএ দাঁড়ায় ৪.৫০।

দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ভাঙার হতাশায় মুষড়ে পড়ে জুবায়ের। চোখের পানিতে জানান দেয়, এমন ফলাফলের আশায় সে ছিলো না। কী হবে তার আগামীর ছুটে চলা স্বপ্নের? এমন সময় জুবায়ের পাশে পায় শিক্ষক ও বড় ভাইদের। তাদের অনুপ্রেরণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ভালো প্রস্তুতি নেয় সে।

হ্যাঁ, সাফল্য ধরা দিয়েছে। জুবায়ের পেরেছে। চলতি বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটে ১৩০তম, ‘বি’ ইউনিটের ৫০০তম ও ‘সি’ ইউনিটে ১২৮তম হয়েছে। এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ‘সি’ ইউনিটে ২৯৫তম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ‘ঘ’ ইউনিটে ২৬১তম ও ‘খ’ ইউনিটে ১৯৫৯তম স্থান লাভ করেছে জুবায়ের।

তার এমন সাফল্যে পরিবারসহ শিক্ষক ও এলাকার মানুষ আনন্দিত। উচ্ছ্বসিত জুবায়ের তার সাফল্য নিয়ে বলেন, ‘আমার এই সাফল্য খুব বড় কিছু নয়। তবে আমি যে অবস্থান থেকে তিনটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি সেটা আমার আগামীর জন্য অনুপ্রেরণা।’

আপনার মতামত লিখুন :