অনার্সে দ্বিতীয় শ্রেণী ও এক বিষয়ে ফেল করেও হলেন রাবি শিক্ষক!

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  04:59 PM, 11 June 2021

অনার্সে এক বিষয়ে ফেল এবং দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়েও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক হয়েছেন ইন্দ্রনীল মিশ্র নামের এক ব্যক্তি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করে কোটায় ভর্তি হয়েছিলেন ইন্দ্রনীল মিশ্র। অনার্সে দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়ে পাস করেছেন তিনি। তবে একটি বিষয়ে ফেল করেছেন। যদিও পরে ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন। ওই বিভাগে যে ১৪ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়ে পাস করেছেন, তার মধ্যে ইন্দ্রনীল মিশ্রর মেধাক্রম দশম। ফলাফল খারাপ হওয়ায় এমএসসিতে থিসিস গ্রুপে যাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহান গত ৬ মে ১১ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে ইন্দ্রনীল মিশ্রও রয়েছেন। এদিন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৩৮ জনকে অ্যাডহকে নিয়োগ দিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এ নিয়োগ দেন উপাচার্য।

আইসিই বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইন্দ্রনীল মিশ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্রর ছেলে। অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্র বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।

আইসিই বিভাগের শিক্ষক ও একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ইন্দ্রনীল মিশ্র ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেননি। পরে ওয়ার্ড কোটায় ভর্তি হয়েছিলেন। ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে। ২০০৯ সালে আইসিই বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) ফাইনাল পরীক্ষায় (২০১০ সালে সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত) দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়ে পাস করেন। তবে তিনি মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে পাস করেন।

একটি নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ইন্দ্রনীল মিশ্র অনার্সে দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়ে পাস করেছেন। তবে অনার্সের ৪০৩ নম্বর বিষয়ে তিনি ফেল করেছেন।এদিকে ফেলের বিষয়টি অস্বীকার করে ইন্দ্রনীল মিশ্রের বাবা অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্র বলেন, আমার ছেলে আপার সেকেন্ড ক্লাস পেয়ে পাস করেছে। ফেল করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার ছেলের এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ রয়েছে।

ওয়ার্ড কোটায় ভর্তির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ বছর ধরে চালু রয়েছে। অনেক শিক্ষকের সন্তান ওয়ার্ড কোটা ভর্তি হয়েছে এবং হচ্ছে। এখানে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। যারা আমার সন্তানকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।

ইন্দ্রনীল মিশ্রকে নিয়োগ দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ আইসিই বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এমদাদুল হক।তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেক ব্যাচে প্রথম শ্রেণি পেয়ে পাস করা শিক্ষার্থী রয়েছেন। সেখানে দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়ে পাস করা একজনকে কেন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা আমার বোধগম্য নয়।এক বিষয়ে ফেল করেও শিক্ষক হওয়ার ব্যাপারে অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন, ফেল করার বিষয়টি আমি শুনেছি। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনও ডকুমেন্টস আমার হাতে নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক এবং দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের মুখপাত্র সুলতান-উল ইসলাম টিপু বলেন, বিদায়ী উপাচার্য ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে নিয়োগ দিয়েছেন। আমাদের জানা মতে, ছাত্রলীগের অনেক ছেলে আছে; যারা অনার্স-মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণি পেয়ে পাস করেছে। সেখানে দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়ে পাস করা একজনকে নিয়োগ দেওয়া অযৌক্তিক।সার্বিক বিষয়ে জানতে রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহাকে একাধিকবার ফোন দিলেও ধরেননি।

সবার আগে আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :