এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার বিরল সনদ

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:19 PM, 27 August 2021

সাধারণত, অভিজ্ঞতা বলতে কোন কাজের নির্দিষ্ট সময়কে বোঝায়। অভিজ্ঞতা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যখন কোন ব্যক্তি কোনো কাজ একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে করে, তখন ওই সময়কেই আমরা ওই ব্যক্তির অভিজ্ঞতা হিসেবে অভিহিত করে থাকি। যেমন- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এনজিও কর্মী, কিংবা কোম্পানির কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অভিজ্ঞতা শুরু হয় কর্মে যোগদানের সময় থেকে। কিন্তু, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারে উল্টো।

শিক্ষকতা পেশায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং কর্মচারীদের অভিজ্ঞতা কর্মে যোগদানের সময় থেকে না করে গণনা করা হয় বেতনপ্রাপ্তির সময় থেকে। হায়রে! শিক্ষক-কর্মচারিদের বিরল অভিজ্ঞতা। বেতন পেলে পরিচয় থাকে, না পেলে পরিচয় থাকে না। কতইনা আজব এই পেশা! এদেশে এমন অনেক শিক্ষক-কর্মচারি রয়েছেন, যারা ১০/১৫ বছর পর এমপিওভুক্ত হয়েছেন (অর্থাৎ বেতন হয়েছে) তাদের এই ১০/১৫ বছরে কোন অভিজ্ঞতাই অর্জন হয়নি। শুধু কি তাই, দীর্ঘদিন চাকরি করার পরও এমপিওভুক্ত না হয়ে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী মারা গেলে তিনি অভিজ্ঞতা শূন্য হয়ে পৃথিবী থেকে বিদয় নিবেন এবং ওই ব্যক্তির পরিবার একজন অক্ষম, দায়িত্বহীন ও ব্যর্থ কর্তাকে হারাবে।

আবার অনেকে দীর্ঘদিন চাকরি করার পরও এমপিওভুক্ত হতে না পারায় কপালের দোষ দিয়ে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। আর তখন এই পেশাকে কিভাবে সম্মানের মনে হবে? আর যদিও এমপিওভুক্ত হতে পারেন সে বেতনে পরিবার চলে ধুঁকে ধুঁকে। শিক্ষিত ছেলে বা মেয়েটা বাবা-মার ভালো চিকিৎসা করাতে না পেরে কিংবা ভালো খাওয়াতে না পেরে পরিবারের বিরাগভাজন হয়ে পড়ে।

দেশের বর্তমান আইন অনুযায়ী ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষক-কর্মচারিদেরই সিনিয়র স্কেল প্রদান করা হয়। কিন্তু, এমপিওভুক্তি থেকে অভিজ্ঞতার হিসেব ধরার জন্য কেহ ১৫ বছর, কেহ ২০ কিংবা ২৫ বছর আবার কেহ তারও অধিক সময় পরে সিনিয়র স্কেল নামক সোনার হরিণের ধরা পায়। হায়রে বিরল অভিজ্ঞতা! শিক্ষকদের সাথে এমন আচরণ করে কিভাবে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব? পেটে ক্ষুধা আর মাথায় দুঃচিন্তা নিয়ে কতটুকু জ্ঞানদান সম্ভব?

শিক্ষকদের সম্মান এবং সম্মানী সময়ের সাথে সমাজে উপযুক্ত না হয়, তখন একজন ভালো শিক্ষকও তাহার ভালো মানসিকতা হারিয়ে ফেলেন। শিক্ষকদের দৈন্য দশা দেখে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থীরা পেশায় আসতে অনাগ্রহ দেখায়। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকবে। তাই, শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।লেখক: প্রধান সমন্বয়ক, বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারি শিক্ষক সমিতি। সূত্রঃ পূর্বপশ্চিমবিডি

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :