ছাত্রীর শিশুকে কোলে নিয়ে পাঠদান, প্রশংসায় ভাসছেন শিক্ষক

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:09 PM, 04 October 2021

কিশোরী ছাত্রীর শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাসে পাঠদান করিয়ে প্রশংসা ভাসছেন পঙ্কজ মধু নামের এক স্কুলশিক্ষক। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।পঙ্কজ মধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক।

রোববার (৩ অক্টোবর) বিদ্যালয়ে গিয়ে কথা হয় পঙ্কজ মধুর সঙ্গে। তিনি বলেন, করোনা মহামারির প্রথম দিকে গোপনে ৯ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর বিয়ে হয়ে যায়। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় বিষয়টি স্কুলের কেউ জানতো না। সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে এক ছাত্রীর অনুপস্থিতি দেখতে পাই। বিদ্যালয় থেকে ছিটকে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করি।

পরে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার বিয়ে ও সন্তানের খবর পাই। তারপরও ছাত্রীর পরিবারকে অনুরোধ করি তাকে স্কুলে পাঠানো। রোববার ওই ছাত্রী শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে স্কুলে আসে। সন্তান নিয়ে ওই ছাত্রীর ক্লাস করতে কষ্ট হচ্ছে দেখে শিশুটিকে আমি কোলে নিই।তিনি আরও বলেন, ভাইরাল হবে এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রচারবিমুখ মানুষ। স্নেহ-মমতা থেকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে ক্লাস করিয়েছি।

সাবেকুন নাহার সাকিনা নামের ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, স্যার (পঙ্কজ মধু) আমাদের নিজের বাবার মতো আদর-স্নেহ করেন। শুধু আমি নই অধিকাংশ শিক্ষার্থীই স্যারকে বাবা ডাকেন।ওই বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রিয়াদ মিয়া বলেন, স্যারের (পঙ্কজ মধু) কোনো তুলনা হয় না। তার কারণে স্কুল মাঠে আমরা ভলিবল খেলতে পারছি। চিনাইর ভলিবল দল স্যারের কারণে সারাদেশের মধ্যে তৃতীয় স্থানে আছে।

এ বিষয়ে চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

২০১০ সালে জুলাই মাসে পঙ্কজ মধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যদিও ২০০০ সালের ৩ জুন থেকে তিনি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। পঙ্কজ মধু গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার সন্তান। তিনি দুই সন্তানের জনক।

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :