ঝকঝকে ইলিশের আড়ালে জমজমাট প্র’তারণা

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:14 PM, 14 September 2020

প্রতিদিন রাজধানীর মতিঝিল এলাকার বাংলাদেশ ব্যাংক ও জীবন বীমা টাওয়ারের ফাঁকা গলিতে ১৮-২০টি দোকান নিয়ে বসে মাছের বাজার। ক্রেতাদেরকে ঝকঝকে-চকচকে দেখাতে বিকেলের আলোতেও মাছের ডালার ওপর চার-পাঁচটি এনার্জি সেভিং বাল্ব জালিয়ে চলছে প্র’তারণা। তবে এ নিয়ে রয়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিন্ন মত। বিক্রেতারা বলছেন, সন্ধ্যা হয়ে যাবে, তাই আগেই বাতি জ্বালিয়েছি। আলো বেশি হলে ক্রেতাদের মাছ দেখতে সুবিধা হয়। ভিন্ন কথা বলছেন ক্রেতারা, মাছের ওপর বেশি

আলো ফেললে দেখতে চকচক করে। এতে নরম ও পচা মাছও টাটকা মনে হয় ক্রেতার কাছে। দাম ভালো পান বিক্রেতারা। ক্রেতারা সাধারণত চোখের দেখায়ই মাছ কিনে থাকে, ধরে দেখে কম। তাই আলোর ঝলকানিটা বেশি দেয়া হয়। এটাও এক ধরনের প্র’তারণা। জানা যায়, শুধু এই বাজারে নয়, দেশের প্রায় প্রতিটি মাছের বাজারে একই অবস্থা। এতে যে প্রতিদিন বহু ক্রেতা ঠকছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রতিটি মাছের বাজারেই থাকে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি বাতি। প্রতিটি মাছের

ডালার উপর চার থেকে পাঁচটি উজ্জ্বল আলোর বাল্ব লাগানো হয়। এতে প্র’তারিত হচ্ছে ক্রেতারা। পদ্মা ও মেঘনা নদীর ইলিশ মাছ হয় একটু বেশি উজ্জ্বল। চকচকে বেশি হয়, রুপালি রংটাও হয় বেশি। এর তুলনায় সাগরের ইলিশ কম উজ্জ্বল। অতিরিক্ত আলো কাজে লাগে এ ক্ষেত্রেও। আলোর ঝলকে ক্রেতার কাছে সব মাছই মনে হয় উজ্জ্বল ও বেশি রুপালি। নদীর ইলিশের দাম বেশি। তাই অধিক আলোর মুনাফা যায় মাছ বিক্রেতার পকেটে। তবে বিষয়টি মানতে নারাজ বিক্রেতারা। জানতে চাইলে

রাজধানীর ঢালি বাজারের মাছ বিক্রেতা ফারুক ইসলাম বলেন, বাতি বেশি দেয়া হয় ক্রেতার সুবিধার জন্যই। ক্রেতা ভালোভাবে দেখে মাছ কিনতে পারে আর মাছের বাজার সাধারণত একটু ভেতরের দিকে থাকে, তাই বাতিও বেশি লাগে। অতিরিক্ত বাল্ব লাগানোর খরচও অতিরিক্ত। মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলও দিতে হয় কয়েক গুণ বেশি। সেই খরচ শেষ পর্যন্ত মাছের দাম বাড়িয়ে ক্রেতার ঘাড়েই চা’পিয়ে দেন বিক্রেতা। জানতে চাইলে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সব ব্যবসায়ীই চান অধিক মুনাফা করতে। এটাই এখনকার স্বাভাবিক চিত্র। অধিক আলোর

প্র’তারণা এই কারণেই। এটি অনৈতিক কাজ। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার সতর্কতাই বেশি দরকার। আলোর ঝলকানির সঙ্গে মাছের বাজারে জেলির প্র’তারণাও রয়েছে। এই পদ্ধতি অবশ্য বেশ পুরনো। মাছের ওজন বাড়াতে এবং শক্তপোক্ত দেখাতে মাছে সিরিঞ্জ দিয়ে জেলি ঢু’কিয়ে দেয়া হয়। মাছের বাজারে বিভিন্ন অভিযানের চিত্রে দেখা যায়, আড়তেই এই অ’পকর্মটি বেশি করা হয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরীর বাজারগুলোতে মৎস্য অধিদফতরের তিনটি দল নিয়মিত

তদারকি করে। মামুনুর রশিদ জানান, মাছে এখন ফরমালিন দেন না ব্যবসায়ীরা। মাছের আইসিং (বরফীকরণ) ও পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় এমনিতেই মাছ ভালো থাকে। তবে জেলি মেশানো হয়। বাজার থেকে প্রায়ই আমরা জেলি মেশানো চিংড়ি পাচ্ছি। তিনি জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ীর আড়তে অভিযান চালিয়ে ৬৫ কেজি জেলি মেশানো বাগদা ও গলদা চিংড়ি আটক করা হয়। তবে এগুলোর মালিক খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তিত। বড় ধরনের অভিযান প্রয়োজন। আমরা শিগগিরই র‌্যাবকে নিয়ে নামব।

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :