নিয়ম ভেঙে করোনার মধ্যে গোপনে নিয়োগ দিচ্ছে বিসিক

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:53 PM, 02 September 2020
নিয়ম ভেঙে করোনার মধ্যে গোপনে নিয়োগ দিচ্ছে বিসিক

নিয়ম ভেঙে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নিয়োগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কর্তৃপক্ষ। বিসিকের এ কাজের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর এ নিয়োগ দেওয়ার কারণে এ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরতরা পদোন্নতি না পেয়ে বঞ্চিত হচ্ছে। সূত্র জানায়, গত ২০১৮ সালে ৪৪ ক্যাটাগরিতে ২০৯ জন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশ করে বিসিক কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে এন্ট্রি লেভেল বা ৯ম গ্রেডের পদসংখ্যা ১৩০টি। ষষ্ঠ থেকে তৃতীয় গ্রেডের পদসংখ্যা ৬৩টি। দেশের সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে এই পদগুলো পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বিসিক চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৮৯ এবং সংশোধিত ১৯৯৪ প্রবিধান ৩ এর উপপ্রবিধান (২) অনুসারে ‘সরকার কর্তৃক সময় সময় জারিকৃত আদেশ অনুসারে কোনো বিশেষ শ্রেণির প্রার্থী এবং করপোরেশন বা করপোরেশন পরিচালিত কোনো প্রকল্পে কর্মরত আছেন বা

ছিলেন এমন প্রার্থীর ক্ষেত্রে উক্ত বয়সসীমা শিথিলযোগ্য হইবে’; ‘আরো শর্ত থাকে যে এই প্রবিধানমালার যাকিছুই থাকুক না কেন করপোরেশন বা করপোরেশন পরিচালিত কোনো প্রকল্পে আছেন বা ছিলেন এমন কোনো প্রার্থীর যদি সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া যাইতে পারে’। বঞ্চিত কর্মকর্তারা আইনের আশ্রয় নিলে তত্কালীন চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত আক্রোশে ১৩ জন কর্মকর্তাকে প্রধান কার্যালয় হতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্ট্যান্ড রিলিজের মাধ্যমে বদলি

করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে মুশতাক হাসান মুহ. ইফিতাখারকে ওএসডি করা হয় এবং আদালতের রায় অনুসারে ৬ষ্ঠ গ্রেডের ৩২টি পদের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়, যা সে সময় দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চেয়ারম্যান পদে প্রেষণে আসেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. মোশতাক হাসান, এনডিসি। তিনি আসার পর মামলার বিষয়ে অবগত হন এবং বিভাগীয় প্রার্থীদের যে বঞ্চিত করা হয়েছে

সে বিষয়ে উপলব্ধি করেন। সেই সঙ্গে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের যথাসময়ে প্রমোশনের আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে মামলা উঠিয়ে নেন বঞ্চিত কর্মীরা। তবে বঞ্চিতদের সঙ্গে দেওয়া কথার বরখেলাপ করে বর্তমান চেয়ারম্যান, নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ভাইভা শুরু করে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন করে। আর নিয়োগ দেওয়া হলে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথা সেটাও না মেনে গত বৃহস্পতিবার অনেকটা গোপন প্রক্রিয়ায় ০৩ ক্যাটাগরিতে ষোলো জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে

বেশির ভাগই নামসর্বস্ব ব্যক্তি বা গ্রুপভিত্তিক প্রচালিত লিমিটেড কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাদের সবগুলোর তথ্য এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এ নিয়োগে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ধারণা। এজন্যই করোনার সময়ে গোপনে নিয়োগ দিচ্ছে বিসিক। তথ্যসুত্রঃ  ইত্তেফাক

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :