প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ছয় বিষয়ের প্রশ্ন, খোলা ছিলো প্যাকেটের মুখ

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:21 PM, 21 September 2022

চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযুক্ত কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. লুৎফর রহমানের কক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত না হওয়া ছয়টি বিষয়ের পরীক্ষার প্রশ্নের প্যাকেট জব্দ করা হয়েছে। যেগুলোর একটি প্যাকেট ছাড়া সব প্যাকেটের মুখ খোলা ছিলো। গতকাল সোমবার পুলিশ সে প্রশ্নগুলো জব্দ করে। বুধবার প্রথম প্রহরে ভুরুঙ্গামারী থানায় দায়ের করা মামলায় এসব অভিযোগ করেন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আদম মালিক চৌধুরী।

চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বুধবার প্রথম প্রহরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কেন্দ্র সচিবসহ ওই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, কেন্দ্র সচিবের কক্ষ থেকে গণিত (আবশ্যিক), উচ্চতর গণিত, কৃষিশিক্ষা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি প্যাকেট ছাড়া সব কটি প্যাকেটের মুখ খোলা ছিল।

নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আদম মালিক চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. লুৎফর রহমান, একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জোবাইর হোসেন, মো. আবু হানিফ ও মো. আমিনুর রহমান। এজাহারে ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এজহারের কপি দৈনিক শিক্ষাডটকমের হাতে এসেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে আদম মালিক চৌধুরী ভূরুঙ্গামারী থানা থেকে সীলমোহর অক্ষত অবস্থায় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র প্রশ্নের দুটি প্যাকেট সংগ্রহ করেন। পরে তারা প্রশ্নপত্র নিয়ে নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন। কেন্দ্র পৌঁছানোর পর লুৎফর রহমান তার নিজ কক্ষের একটি বইয়ের তাকে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট দুটি রাখেন। পরে আনুমানিক সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে আদম মালিক চৌধুরী কেন্দ্র সচিবের কক্ষে যান। এ সময় কেন্দ্র সচিব প্যাকেট খুলে প্রশ্নপত্র বের করেন। পরে ১০টা ৫০ মিনিটে প্রশ্নপত্রগুলো কেন্দ্রের কক্ষভিত্তিক দায়িত্বরত শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এজাহারে আদম মালিক চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, ওই দিন আনুমানিক বেলা দেড়টার দিকে তিনি ওই কেন্দ্র সচিবের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে বলে জানতে পারেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার শর্মাকে জানান। পরীক্ষা শেষে ইউএনও দীপক কুমার শর্মার উপস্থিতিতে লুৎফর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে লুৎফর কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে লুৎফর স্বীকার করেন, তার কাছে পরের একাধিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আছে। এরপর লুৎফর রহমানের কক্ষের বইয়ের তাক থেকে একটি কাপড়ের ব্যাগ পাওয়া যায়। ওই ব্যাগের ভেতর থেকে গণিত, উচ্চতর গণিত, কৃষিশিক্ষা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি প্যাকেট ছাড়া সব কটি প্যাকেটের মুখ খোলা ছিল।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ভূরুঙ্গামারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাঈদ মো. আতিক নুর প্রশ্নপত্রগুলো জব্দ করেন। পরে তিনি লুৎফর রহমানকে আটক করেন। এ সময় লুৎফর রহমানকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু হানিফের সহায়তায় কৌশলে প্রশ্নপত্রের প্যাকেটগুলো কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। পরে প্রশ্নপত্রগুলো আবু হানিফ, অন্য দুই শিক্ষক জোবাইর হোসেন, আমিনুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনের মাধ্যমে গোপনে প্রশ্নগুলো ফাঁস করে দেয়া হয়।

এদিকে এই মামলায় এখন পর্যন্ত কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক হামিদুর রহমান ও মো. সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মোরশেদুল হাসান বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে তিন শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।মামলার বিষয়ে জানতে বাদি মো. আদম মালিক চৌধুরীকে গণমাধ্যমের কাছে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। সূত্রঃ দৈনিক শিক্ষা

আপনার মতামত লিখুন :