প্রাথমিকসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে সংশয়

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:33 AM, 11 October 2020

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফায় ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সব স্তরের বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আসন্ন শীতে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ (দ্বিতীয় ঢেউ) শুরুর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। ফলে সহসাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না বলেই অভিমত সংশ্লিষ্টদের। তাদের

মতে, শীত শুরু হলে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে। এই অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিপক্ষেই

মত তাদের। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আমরা বর্তমানে যে অবস্থায় আছি এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ঝুঁকিপূর্ণ। সারা পৃথিবীতেই করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা

যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও দ্বিতীয় সংক্রমণের ব্যাপারে সতর্ক করেছে। শীতের সময়ে দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ঠিক হবে না। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক

অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, করোনা সংক্রমণ পুরোপুরি কমে না আসলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীর জীবনের নিরাপত্তা সবার আগে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিরাপদ মনে না হলে স্কুল-কলেজ খোলার খোলার সুযোগ নেই। চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের টেলিভিশন, অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে পাঠদান অব্যাহত থাকবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল হোসেন বলেন, শীতে করোনার প্রকোপ বাড়বে। করোনার প্রকোপ বাড়লে তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সুযোগ থাকবে না। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যেও যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

খোলা না যায় তবে তো অটো প্রমোশন ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। এদিকে করোনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নভেম্বরে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হবে, তখন সংক্রম আরও বাড়তে পারে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন দ্বিতীয় ঢেউ এলে, সংক্রমণ বাড়লে তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সে হিসেবে এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা অনিশ্চিত। তাছাড়া

শীতকালে করোনার প্রকোপ থাকলে সে হিসেবে নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ না কমায় ইতোমধ্যেই জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। ফলে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার পক্ষেই মত দিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।তথ্যসূত্রঃ সোনালীনিউজ

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :