বাধ্য হয়ে অবসরে যেতে চান শাহবাগের সেই স্মা’র্ট ঝাল-মুড়িওয়ালা !

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  12:19 PM, 21 September 2020

চোখে চশমা, কানে এয়ারফোন, চকচকে শার্ট, গলায় টাই, পায়ে কালো সু। পকে’টে রাখা মোবাইল ও কলম, হাতে সিলভা’র রংয়ের ঘড়ি। পরিপাটি সাজগোজ করা ৪৭ বছর বয়সের এই ব্যক্তির দেখা মেলে রাজধানী শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের ফুটপাতে। তিনি আর কেউ নন একজন স্মা’র্ট ঝাল মুড়িওয়ালা জুলহাস হাওলাদার। তবে দীর্ঘ দশ বছরের স্বপ্নের এই পেশা ছেড়ে জীবন বাঁ’চাতে বাধ্য হয়েই এখন অন্য পেশায় যেতে চান তিনি। করো’নায় ঝাল মুড়ি

আগের মতো এখন আর মানুষ খায় না। তাই বেচা-বিক্রি না হওয়ায় বউ বাচ্চা নিয়ে রীতি মতো হিমসিম খেতে হচ্ছে জুলহাসকে। জুলহাসের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনে না চাইলেও বাধ্য হয়েই ছাড়তে হচ্ছে দীর্ঘ দশ বছরের এই পেশা। মুড়ি বিক্রি করা আমা’র পেশার চেয়েও নে’শা বেশি। করো’নার কারণে এখন আমা’র মুড়ি চলে না। সারা দিনে ৫শ’ টাকাও বিক্রি করতে পারি না। যে টাকা লাভ হয় তা দিয়ে বউ বাচ্চা নিয়ে রীতি মতো সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই

ছাড়তে হচ্ছে মুড়ি বিক্রি করা। দাঁড়িয়ে যখন কথাগুলো বলছিলেন ৪৭ বছরের বয়সী ঝাঁলমুড়ি বিক্রেতা জুলহাস হাওলাদার তখন তার চোখে-মুখে পড়ে আবেগের ছাপ। আগে বাসা-বাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ করতেন তিনি। তা ছেড়ে ঝালমুড়ির দোকান দিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, সৎ পথে থেকে এই ব্যবসার মাধ্যমে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোই ছিলাম; কিন্তু করো’নার প্রথম থেকে ঘর বসে ছিলাম এখন দোকান খোললেও মুড়ি আগের মতো চলে না। আমি একজন ডিজিটাল-স্মা’র্ট

ঝালমুড়ি বিক্রেতা এটাই আমা’র অহংকার। আগে পরিপাটি পোশাকে স্মা’র্ট এ ঝালমুড়ি বিক্রেতা জুলহাসকে ঘিরেই উৎসুক মানুষের ভিড় লেগে থাকতো। করো’নার কারণে এই ভিড় এখন একদিনও চোখে পড়ে না। জুলহাস জানান, গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর। তিন ছে’লে-মেয়ে ও স্ত্রী’কে নিয়ে রাজধানীর বসুন্ধ’রা সিটি শপিং মলের পেছনে ছোট একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। বড় ছে’লেটা একটি জটিল রোগ ভুগছেন। ফুটপাতে মুড়ি বিক্রি করলেও পাশেই রাখা আছে ময়লার ঝুড়ি। সাধারণ মানুষ মুড়ি

খেয়ে কাগজ, ময়লা সেই ঝুড়িতে রাখছেন। সঙ্গে রাখেন সাবান, পানি ও টিস্যু। তিনি আরো বলেন,পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে ভালো পোশাকে থাকার চেষ্টা করি সবসময়। আমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বলে ক্রেতারাও আমাকে সম্মান দেয়, ভালোবাসে। আমি নিজেকে ডিজিটাল-স্মা’র্ট ঝালমুড়িওয়ালা পরিচয় দিতে ভালোবাসি। আমা’র বাবা একজন মুক্তিযু’দ্ধা ছিলেন। তার আদর্শে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা, বাংলাদেশকে ভালোবাসি। তাই আমা’র আদর্শ বঙ্গবন্ধুর ছবিতে ফুলের মালা দিয়ে রাখি সবসময়। পাশেই আমা’র বাবার মুক্তিযু’দ্ধের সনদও রাখি। এটাই আমা’র আদর্শ।

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :