বাবু জাতের উচ্চফলনশীল পেঁপে বিক্রি করে আয় দুই লাখ টাকা

 বেকার জীবন
প্রকাশিত :  09:01 PM. 7 October 2021

ঘন সবুজ পাতার মাঝে সারি সারি গাছে ঝুলছে অগণিত পেঁপে। দেখে নয়ন জুড়িয়ে যায়। প্রথমবারের মতো শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের খোয়াজপুর গ্রামের কৃষক আলী হোসেন লিটন তার এক বিঘা জমিতে লালতীরের হাইব্রিড বাবু জাতের পেঁপে চাষ করেন। অল্প সময়ে ছোট ছোট গাছে এমন ফলন পেয়ে আনন্দে আত্মহারা কৃষক লিটন।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায, মাঠ জুড়ে সারি সারি পেঁপে গাছ। গাছগুলো তেমন বড় হয়নি। এরই মধ্যেই বড় বড় আকারের প্রচুর পরিমাণে পেঁপে ধরেছে। কৃষক আলী হোসেন লিটন পেঁপে পাড়ছেন এবং হলুদ হয়ে যাওয়া পাতাগুলো পরিস্কার করছেন।

এ সময় মাঠেই কথা হয় সফল কৃষক লিটনের সঙ্গে। তিনি জানান, এ বছর প্রথমবারের মতো এক বিঘা জমিতে লালতীরের হাইব্রিড বাবু পেঁপে চাষ করেন। তার খরচ হয়েছে আট হাজার টাকার মতো। এখন ফলন আসা শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১২শ’ কেজি কাঁচা পেঁপে বিক্রি করেছেন তিনি। যার বাজার দর কেজি প্রতি ২১ টাকা, এতে সে ২৫ হাজার টাকার উপরে পেয়েছেন।

এ সময় বাজারে সবজির অনেকটাই সংকট থাকে তাই স্থানীয় বাজারে পেঁপের চাহিদাও ভালো। এরকম উৎপাদন অব্যাহত থাকলে আরও দেড় থেকে দুই লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।

এ বিষয়ে কথা হয় হাইব্রিড বাবু পেঁপে বীজের বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান লালতীরের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক তাপস চক্রবর্তীর সাথে। তিনি জানান, হাইব্রিড বাবু জাতটি অধিক ফলনশীল ও আকর্ষণীয়। তাদের উদ্ভাবিত এই জাতটি এদেশের আবহাওয়া এবং জলবায়ুতে সহনশীল।

তিনি জানান, এই জাতের পেঁপে একটি অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ। এর শাঁস আকর্ষণীয় হলুদ রংয়ের হয়। খেতে সুস্বাদু ও ফলের মিষ্টতার পরিমাণ শতকরা ১৩ থেকে ১৪ ভাগ। এটি কাঁচা এবং পাকা দুই অবস্থায় বাজারজাত করা যায়। যে কারণে কৃষকদের জন্যে এটি অনেকটাই আর্থিকভাবে লাভজনক। স্থানীয় আবহাওয়াতে সর্বত্রই এটি চাষ উপযোগী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মুনালিসা সুইটি জানান, লালতীরের হাইব্রীড পেঁপে বাবুর ফলন খুব ভালো হয়েছে। এটি চাষ করে কৃষক আলী হোসেন লিটন বেশ লাভবান হয়েছেন। ইতিমধ্যে তার উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক বেশি আয় করেছেন। এর ভালো ফলনে অন্য কৃষকরা উৎসাহিত হয়েছেন।

তিনি জানান, কৃষক লিটনের মতো অন্যান্য কৃষকরাও তাদের অনেক অনাবাদি ও খালি পড়ে থাকা জমিতে পেঁপে চাষ করে লাভবান হতে পারেন। তাতে সবজী ও ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও কৃষকরা লাভবান হবেন।

উল্লেখ্য, হাইব্রিড বাবু উৎপাদনে প্রতি শতাংশে বীজের পরিমাণ লাগে ০.৩৫ গ্রাম, একর প্রতি দরকার হয় ৩০ থেকে ৩৫ গ্রাম। এই জাতটি হলুদ মোজাইক ভাইরাস রোগ সহনশীল।তথ্যসূত্রঃ গাজীপুর বার্তা

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :

এই বিভাগের সর্বশেষ