যুক্তরাষ্ট্রে বসেই ২০১৫ সাল থেকে বেতন নিচ্ছেন প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষিকা

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:53 AM, 11 September 2021

সালের ২১ এপ্রিল সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রায়গড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন সৈয়দা জেসমিন সুলতানা। এরপর ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে পাঁচ বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসেই ৫ বছর ধরে ব্যাংক থেকে নিয়মিত বেতনের টাকা উত্তোলন করে আসছেন তিনি।এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ওই বিদ্যালয়েরই সদ্য অনুমোদিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমান খান এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর মাত্র এক বছর নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। এরপর টাকা ৫ বছর ধরে তিনি অনুপস্থিত। থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে।

এছাড়া ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তারিখে জেসমিন সুলতানা সোনালী ব্যাংকের ঢাকা দক্ষিণ শাখা থেকে মোট চার লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে অভিযোগের পর জেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিষয়টির তদন্ত করছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা শিক্ষা অফিসার রুমান মিয়া। গত মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) তিনি বিদ্যালয়টিতে সরেজমিনে তদন্ত করেন।

রুমান মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ সকলের বক্তব্য শুনেছি। বিদ্যালয়ের খাতাপত্রও দেখা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক জেসমিন সুলতানা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত, তার সত্যতা পাওয়া গেছে। শিগগিরই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

জেসমিন সুলতানার বড় ভাই রায়হান আহমদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, স্বামীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ভিসা পেয়ে জেসমিন সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই বসবাস করছেন।

দক্ষিণ রায়গড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমান খান জানান, বিদ্যালয়ের সংরক্ষিত তথ্যমতে প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন সুলতানা ২০১৩ সালে যোগদান করার পর থেকে মাঝে-মধ্যে স্কুলে আসতেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, হাজিরা খাতা ও স্লিপের টাকা নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর স্কুলে আসেন না।

তিনি আরও বলেন, শুনেছি তিনি (জেসমিন সুলতানা) সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তবে ২০১৭ সালে এসে ব্যাংক থেকে সরকারি বেতন উত্তোলন করার সময় কয়েকদিন বিদ্যালয়ে এসেছিলেন।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়তি রাণী চন্দ জানান, বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অনেক আগেই জানানো হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার দেওয়ান নাজমুল আলম বলেন, জেসমিন সুলতানা কয়েক বছর আগে তৎকালীন শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে তিন মাসের চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়েছিলেন। এখন তিনি কোথায় আছেন আমার জানা নেই। সূত্রঃ জাগো নিউজ

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :