সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষক বদলির পাইলটিং শুরু অক্টোবরে

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:53 AM, 29 September 2021
প্রাথমিকে দ্রুত সার্কুলার দাবী নিয়োগ প্রত্যাশীদের

অক্টোবরে শুরু হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইন বদলির পাইলটিং কার্যক্রম। এটি শেষ হলেই শুরু হবে অনলাইনে শিক্ষক বদলি। শিক্ষকদের ভোগান্তি দূর করতে এ সেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক অবস্থায় গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় বদলি কার্যক্রমের জন্য পাইলটিং শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের সব শিক্ষককে বদলির কার্যক্রম চলবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া পাইলটিংয়ের এলাকার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অনলাইনে বদলির পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেও মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষক বদলির এ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ (আইএমডি)। তারা বলছে, এ কার্যক্রম চালু হলে শিক্ষক বদলিতে ভোগান্তি, অযাচিত তদবির কমে যাবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকবে। কেননা, অনলাইনে বদলির আবেদনে শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের তথ্য আগে থেকেই ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা থাকবে। এমনভাবে সফটওয়্যারে সবকিছু সেট করা হয়েছে যেন অযাচিত কিংবা বদলি শর্ত পূরণ করে না এমন কেউ আবেদন করতে না পারে।

এছাড়া শূন্যপদের সব তথ্য ডাটাবেজে থাকায় শিক্ষক আবেদনের সময় বিদ্যমান শূন্যপদ দেখতে পাবেন এবং একাধিক বিদ্যালয় বাছাই করে আবেদন করতে পারবেন। আর এ কার্যক্রম শুরু হলে সারা বছরই শিক্ষকরা বদলি আবেদন করতে পারবেন বলে জানান আইএমডি কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে শিক্ষক প্রশিক্ষণ দেওয়া যাচ্ছিল না। বিদ্যালয় পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবরে একটি উপজেলায় পাইলটিং শুরু হবে। পাইলটিং শেষ হলে পর্যায়ক্রমে অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষক বদলি শুরু হবে।

শিক্ষক বদলির বিদ্যমান পদ্ধতির ধাপগুলো বিশ্লেষণ করে সেবা দিতে বাস্তব সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা, পশ্চাৎগতি এবং পদ্ধতিগত শূন্যতা নির্ণয় করা করা হয়। শিক্ষকরা তাদের শিক্ষক পিন (ই-প্রাইমারি সিস্টেম) ব্যবহার করে ওটিপি অথেন্টিকেশনের মাধ্যমে লগইন করে নিজস্ব ইউআই (ইউজার ইন্টারফেস)-এ প্রবেশ করে আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের তথ্যাদি আগে থেকেই ডাটাবেইজে সংরক্ষণ থাকায় শুধুমাত্র বদলির ক্ষেত্র অন্তঃউপজেলা, আন্তঃউপজেলা, আন্তঃজেলা, আন্তঃবিভাগ এবং অন্তঃসিটি করপোরেশন এবং কারণ সিলেক্ট করে বদলির আবেদন করা যাবে। মাসিক রিটার্ন, চাকরি বইয়ের ফটোকপি ইত্যাদি সংযুক্তির প্রয়োজন হবে না।

তবে ক্ষেত্রমতে স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থলের বা স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র, বদলির কারণ কিংবা প্রেক্ষাপটের আলোকে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হতে পারে। বিদ্যমান বদলির নীতিমালার শর্তাবলীর আলোকে এমনভাবে সফটওয়্যারে সবকিছু সেট করা হয়েছে যেন অযাচিত কিংবা বদলির শর্তপূরণ করে না এমন কেউ আবেদন করতে পারবে না। শূন্যপদের সকল তথ্য ডাটাবেজে থাকায় শিক্ষকরা আবেদনের সময়ই বিদ্যমান সকল শূন্যপদ দেখতে পাবেন এবং এক বা একাধিক বিদ্যালয় বাছাই করে আবেদন করতে পারবেন।

সঠিকভাবে আবেদন সাবমিট করলে আবেদনকারী আবেদনের একটি পিডিএফ কপি এবং অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাকিং নম্বর সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড রিসিপ্ট পাবেন এবং মোবাইলে নোটিফিকেশন পাবেন। তাছাড়া শিক্ষক পিন ব্যবহার করে লগইন করে যেকোনও সময় নিজের ড্যাশবোর্ড থেকে আবেদনের বর্তমান অবস্থান জানতে পারবেন। সফটওয়্যারে প্রতিটি ধাপে সময় নির্ধারণ করা থাকবে। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদনটি অগ্রসর হতে থাকবে এবং কোনও ধাপে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণের সুযোগ থাকবে না।

আবেদনকারীর বদলির প্রেক্ষাপটের আলোকে সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্কোর নির্ধারিত হবে। ফলে আবেদনকারী একাধিক হলে অগ্রাধিকার তালিকাও সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে। এতে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে অন্যদিকে অযাচিত তদবির ও চাপ কমে যাবে।সূত্রঃ পূর্বপশ্চিমবিডি

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :