১০মের মধ্যে শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতনের কাজ শেষ করার নির্দেশ

বেকার জীবনবেকার জীবন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:53 PM, 27 April 2021

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩ তম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার বছর পেরুলেও এখনো মাঠ পর্যায়ের সব শিক্ষক নতুন গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন না। আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়ার শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জটিলতায় তারা এখনো উন্নীত গ্রেডে বেতন পাননি।

তবে, এ জটিলতা নিরসনে স্নাতক থেকে কম শিক্ষাগত যোগ্যতার শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেডে নির্ধারণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলো উন্নীত স্কেলে শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষকরা।

এ পরিস্থিতে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোকে আগামী ১০ মের মধ্যে শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেডে নিধারণের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বেতন নির্ধারণের কাজ বিনা ব্যর্থতায় শেষ করে অধিদপ্তরকে এ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠাতে সব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে থেকে এ নির্দেশনা দিয়ে আদেশ সব বিভাগীয় উপপরিচালক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) আদেশটি প্রকাশ করেছে অধিদপ্তর। আদেশে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে ৯ ফেব্রুয়ারি ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করা হয়।

২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে এ সংক্রান্ত অপশন আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়ারে সংযুক্ত করা হয়। এরপর জেলা, উপজেলা ও ডিডিও আইডি থেকে বেতন নির্ধারণের সুযোগ প্রদান করা হয়। সফটওয়ারে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রির চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকদের উন্নীত স্কেলের বেতন নির্ধারণের অপশন সংযোজনের জন্য ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ প্রকল্প দফতরকেও চিঠি দেয়া হয়েছে।

সহসা তা সংযোজন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও মাঠ পর্যায়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে উন্নীত স্কেলে সহকারী  শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন করেনি। এর ফলে শিক্ষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ কাজ সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে উপজেলা শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস ও বিভাগীয় শিক্ষা অফিসের জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে আদেশে আরও বলা হয়েছে, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষকদের নাম, বিদ্যালয়ের নাম, যোগদানের তারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, বর্তমান বেতন গ্রেড, রেকর্ডসহ ইত্যাদি প্রাপ্তি স্বীকার করে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে উপজেলা-জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাতে হবে।

২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মের মধ্যে জেলা-উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সাথে সমন্বয় করে তাদের মাধ্যমে উন্নীত স্কেলে শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে হবে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করার পরে কোন সমস্যা দেখা দিলে তা  উল্লেখ করে শিক্ষকদের মধ্যে কতজনের বেতন উন্নীত স্কেলের নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কতজনের হয়নি তা ৬মের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠাতে হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের করণীয় হিসেবে কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে,  উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দেয়া তথ্য সংকলন করে জেলাভিত্তিক প্রতিবেদন ৯ মের মধ্যে স্ব স্ব বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে পাঠাতে হবে।বিভাগীয় শিক্ষা অফিসের করণীয় হিসেবে কর্মপরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া  জেলাভিত্তিক বিস্তারিত প্রতিবেদন ১০ মের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকের (অর্থ) কাছে পাঠাতে হবে বিভাগীয় শিক্ষা অফিসকে।

তারপর ১৩তম গ্রেডে শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের কাজ বিনা ব্যর্থতায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে ১০ মের মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদনের হার্ডকপি এবং ইমেইলে তার সফটকপি পাঠাতে বলা হয়েছে বিভাগীয় উপপরিচালকদের। সূত্রঃ দৈনিক শিক্ষা

 আমাদের বিসিএস গ্রুপে যোগ দিন

আপনার মতামত লিখুন :